রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে বেড়েই চলেছে ডায়রিয়া আক্রান্ত রোগীর চাপ। প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যায় রেকর্ড গড়ছে হাসপাতালগুলো। শুধুমাত্র গত সাতদিনেই মহাখালির আইসিডিডিআরবিতে ভর্তি হয়েছে ৯ হাজারের বেশি রোগী।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সাধারণত এপ্রিল মাসে দেশে ডায়রিয়ার প্রাদুর্ভাব দেখা যায়। কিন্তু এ বছর মার্চের শুরুতেই রোগী বাড়তে শুরু করে আশঙ্কাজনক হারে। এ অবস্থায় রাজধানীতে রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে আইসিডিডিআর’বির চিকিৎসকসহ অন্যান্য স্বাস্থকর্মীদের।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাস্তার খাবার, বাসি-পচা খাবার খেলেও ডায়রিয়া হতে পারে। তবে ডায়রিয়া হবার মূল কারণ দূষিত পানি। খাবার পানিসহ নিত্য ব্যবহার্য পানিও হতে হবে বিশুদ্ধ এবং নিরাপদ। কিন্তু কোনওভাবে যদি খাবার পানির লাইনের সঙ্গে সুয়ারেজ লাইনের সংযোগ ঘটে যায় তাহলে পানি হয়ে পড়ে দূষিত।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, সচেতন না হলে কমানো যাবে না আক্রান্তের এ হার।
নগর বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ঢাকা শহরে বিভিন্ন ধরণের স্থাপনা নির্মাণ চলছে। রাস্তাঘাট খোড়া হচ্ছে। সেখানে ওয়াসার পানির পাইপ ফেটে গিয়ে সুয়ারেজ লাইনের সঙ্গে মিলে পানি আর বিশুদ্ধ থাকছে না। যার কারণে ঢাকার ভেতরে ডায়রিয়ার রোগী বাড়ছে।
শ্যামলীর বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল, মহাখালীর আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রেসহ রাজধানীর প্রায় সব হাসপাতালেই ডায়রিয়া রোগীর ভিড় লেগেই আছে।
আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্রে গত মাসে যেখানে প্রতিদিন রোগী ভর্তি হতো ৯শ থেকে সাড়ে ৯শ। এপ্রিলের ১ম দিন থেকে সেখানে রোগী ভর্তি হচ্ছে সাড়ে ১৩শ ওপরে।
বাইরের খোলা খাবার ও পানি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, ডায়রিয়া পানিবাহিত রোগ। তাই এটি ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সচেতনতা জরুরী।
জানুয়ারি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও আইসিডিডিআরবিতে চিকিৎসা নেওয়া রোগীর সংখ্যা সাড়ে চার লাখের বেশি।
শুধু ঢাকাও এর আশেপাশের এলাকাতেই সীমাবদ্ধ নেই ডায়রিয়ার প্রকোপ। সারাদেশেই লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। এতে হাসপাতালগুলোতে জায়গা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।