১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৬:৫৬

কুমিল্লায় কওমী মাদ্রাসার শিক্ষার্থী বলাৎকারের স্বীকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেছে

সোনার সিলেট ডেস্ক
  • আপডেট রবিবার, আগস্ট ২১, ২০২২,

কুমিল্লা জেলার কাশেমুল উলুম কওমী মাদ্রাসার এক শিশু শিক্ষার্থী বলাৎকারের স্বীকার হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুমিল্লা জেলার লাকসাম উপজেলার বাকই ইউনিয়নের অশ্বদিয়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্র রাকিবুল ইসলাম (৬)। রাকিবুলকে মাদরাসায় সুশিক্ষায় শিক্ষিত করার লক্ষ্যে কুমিল্লা জেলার স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান কাসেমুল উলুম কওমি মাদ্রাসায় আবাসিক ছাত্র হিসেবে ভর্তি করায়। মাদ্রাসার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ছাত্রদের দেখভাল করার যথেষ্ট সুনাম রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। রাকিবুলকে মাদ্রাসায় ভর্তি করানোর দ্বিতীয় বছর ১৮ই আগস্ট ২০২২ ভোরবেলা মাদ্রাসা থেকে রাকিবুলের বাবার মোবাইলে মাদ্রাসা থেকে কল দিয়ে জানানো হয়, রাকিবুল হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে গেছে আমরা তাকে কুমিল্লা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেছি। আপনারা দ্রুত হাসপাতালে আসুন।

এমন খবর শোনার পর রাকিবুলের বাবা ও বড় ভাই রাশেদুল ইসলাম দ্রুত হাসপাতালে ছুটে আসেন। তারা হাসপাতালে পৌঁছানোর কিছুক্ষণের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষকরা দ্রুত সেখান থেকে ছটকে পড়েন। কর্তব্যরত ডাক্তারের কাছে জানতে চাইলে তারা বলেন রাকিবুল পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।অর্থাৎ তাকে কেউ জোরপূর্বক বলাৎকার করেছে। যার কারনে তার শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। শিশু হওয়ায় তার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন।

পরের দিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তাররা তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন। তৎক্ষণাৎ রাকিবুলের বাবা ও ভাই তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানেও রাকিবুলের শারীরিক অবস্থা ক্রমান্বয়ে অবনতি ঘটতে থাকে। ওই হাসপাতালে ভর্তি করানোর পরের দিন অর্থাৎ ২০ শে আগস্ট ২০২২ রোজ শনিবার সকাল বেলা রাকিবুল মৃত্যুবরণ করেন। কর্তব্যরত চিকিৎসকরা বলেন রাকিবুলের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে তাই তাকে বাঁচানো যায়নি। তার বয়স কম হওয়ায় তাকে চিকিৎসা দেয়াটাও জটিল ও কষ্টসাধ্য ছিল। তারা তাদের সাধ্যমত চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো যায়নি।

রাকিবুলের বাবা ও ভাই বলেন তারা ডাক্তারের নিকট থেকে পাশবিক নির্যাতনের খবর শোনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে তারা বিষয়টি সম্পূর্ণ অস্বীকার করে। আমাদের রিপোর্টারও এ বিষয়ে জানতে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা একই কথা বলে।

এদিকে রাকিবুল মৃত্যুবরণ করার পর গণমাধ্যমে খবর প্রচারিত হওয়ার পর এই নিয়ে পুরো কুমিল্লা জেলা জুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। রাকিবুলের বাবা বলেন যারা তার নিষ্পাপ শিশু ছেলেকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চায়। পাশাপাশি ওই মাদ্রাসা যেন বন্ধ করে দেয়া হয় তারও দাবি জানান তিনি।

এ ব্যাপারে পুলিশ প্রশাসনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন এ ব্যাপারে এখনও কেউ কোন অভিযোগ দেয়নি। তবে অভিযোগ পেলে পুলিশ অবশ্যই বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন বলে জানান।

রাকিবুলের অকাল মৃত্যুতে যেমনি সচেতন মহলে শোকের ছায়া বইছে তেমনি তার পরিবারেও চলছে শোকের মাতম। এমন নিষ্পাপ শিশুর এভাবে দুনিয়া থেকে বিদায় নেবে এটা কেউ মেনে নিতে পারছেনা। এ ব্যাপারে সকল সচেতন মহল এবং শিশু রাকিবুলের পরিবার সুষ্ঠু বিচারের আহবান জানান। রাকিবুলের বাবা কান্নামাখা কন্ঠে বলেন, তারা শীঘ্রই এ ন্যক্কারজনক ঘটনার বিচার চেয়ে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন।

সংবাদটি ভালো লাগলে শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ধরনের আরও সংবাদ

© All rights reserved © 2016 Paprhi it & Media Corporation
Developed By Paprhihost.com
ThemesBazar-Jowfhowo