জয়নগর গ্রামে একটি ঋণ সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় মুরব্বীদের তত্ত্বাবধানে একটি সামাজিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এই চুক্তিপত্রে জড়িত পক্ষগণ হলেন, মোঃ জমশেদ উল্লাহ (জয়নগর, নবীগঞ্জ, হবিগঞ্জ) এবং মোসাঃ ফিরুজা বেগম (এওয়াতৈল, ওসমানীনগর, সিলেট)।
জানা যায়, ফিরুজা বেগমের সাথে জমশেদ উল্লাহর পারিবারিক সম্পর্ক (ফিরুজা বেগম জমশেদের ভাইয়ের স্ত্রী)। ফিরুজা বিভিন্ন সময় ঋণ পরিশোধ, দালান ঘর নির্মাণ এবং বিদেশ গমনের ব্যয় নির্বাহের জন্য জমশেদের নিকট থেকে মোট ৩০ লক্ষ টাকা ঋণ গ্রহণ করেন। ঋণের প্রমাণ হিসেবে ফিরুজা তার নিজ নামীয় ব্যাংক একাউন্টের একটি স্বাক্ষরিত চেক প্রদান করেন এবং প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি বিদেশ গমনের আগে বা পরে এক মাসের মধ্যে ঋণ পরিশোধ করবেন।
কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও ফিরুজা ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হন এবং জমশেদের তাগাদার পরেও ঋণ পরিশোধে অনীহা প্রকাশ করেন। এমনকি স্থানীয় মুরব্বিদের সাথে যোগাযোগের সময় তিনি ঋণ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করেন এবং চেক সম্পর্কে অজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মীমাংসা বৈঠকে উপস্থিত থাকার জন্য তাকে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি তাতে সাড়া দেননি।
স্থানীয় মুরব্বিগণ তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত দেন যে, ফিরুজা যতক্ষণ ঋণ পরিশোধ না করবেন, জমশেদ তার বসতভিটাসহ সকল স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ভোগ দখল করবেন। ফিরুজা বেগমকে একঘরে ঘোষণা করা হয়েছে। গ্রামের কোনো ব্যক্তি বা পরিবার তার সাথে সামাজিক, পারিবারিক বা আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখবেন না এবং তাকে কোনো সহায়তা প্রদান করবেন না।
স্থানীয় বাসিন্দারা এই সিদ্ধান্তকে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। তবে, কেউ কেউ এ ধরনের সামাজিক বয়কটের নৈতিকতা আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। স্থানীয় মুরব্বিরা জানিয়েছেন, এই চুক্তি গ্রামের শান্তি ও ঐক্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।