মূল সংবাদে যান

বুধবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৬

রাজনীতি
রক্তাক্ত ২৮ অক্টোবর আজ

২০০৬ সালের এ দিনে কী ঘটেছিল সিলেটে?

২০০৬ সালের এ দিনে কী ঘটেছিল সিলেটে?

কিছু তারিখ কেবল ক্যালেন্ডারের পাতায় আটকে থাকে না। রক্তাক্ত স্মৃতি হয়ে বেঁচে থাকে মানুষের হৃদয়ে। কিছু দৃশ্য সময়ের প্রবাহে ঝাপসা হয় না, বরং যত দিন যায়, ততই ফিরে আসে নতুন করে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তেমনই এক রক্তাক্ত দিন। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে লগি-বৈঠার সহিংসতা, প্রাণহানি ও বর্বরতার যে চিত্র সেদিন তৈরি হয়েছিল, তা থেকে বাদ পড়েনি সিলেটের রাজপথও। সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে এই প্রতিবেদকের চোখের সম্মুখে সংঘটিত সেই হামলা ও নারকীয় তাণ্ডবের দৃশ্য আজও স্মৃতি হয়ে ভাসছে। চোখের সামনে আজও ভেসে ওঠে সেই ভয়াবহ দৃশ্য—লগি-বৈঠার আঘাতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়ছেন সিলেট মহানগর ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি নূরুল ইসলাম বাবুল। কিন্তু সেখানেই থামেনি হামলাকারীদের নৃশংসতা। তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে ইটের ওপর মাথা রেখে পাথর দিয়ে একের পর এক আঘাত করা হচ্ছিল। প্রকাশ্য রাজপথে এমন বর্বরতা প্রত্যক্ষ করা ছিল এক ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। সিলেটের রাজনৈতিক ইতিহাসের সেই রক্তাক্ত অধ্যায় আজও শিহরিত করে সিলেটবাসীকে। ঘটনাটি ছিল সিলেটের সহনশীল ও সভ্য রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপরও নির্মম আঘাত।

২০০৬ সালের ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যায় তৎকালীন সদ্য বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রেডিও-টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন। মূলত এ ভাষণ শেষ হওয়ার পরপরই দেশব্যাপী শুরু হয় লগি-বৈঠার তাণ্ডব। বিভিন্ন স্থানে বিএনপি-জামায়াতের অফিসসহ নেতাকর্মীদের বাড়ি বাড়ি ধরে যেমন চালানো হয় পৈশাচিক হামলা, তেমনি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেওয়া হয় অনেক সরকারি অফিস, বাড়িঘর, পুরো দেশব্যাপী চলে তাণ্ডবলীলা। পরদিন শনিবার সকালে সিলেট নগরীর গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক সমাবেশস্থল কোর্ট পয়েন্টে চারদলীয় ঐক্যজোটের ব্যানারে সমাবেশ হওয়ার কথা ছিল। সমাবেশের প্রথম পর্বে ছাত্রসংগঠনগুলোর কর্মসূচি। এ সমাবেশকে কেন্দ্র করেই সকাল থেকে সেখানে জড়ো হচ্ছিলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা। মাইকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল, কিছুক্ষণের মধ্যে সমাবেশের কার্যক্রম শুরু হবে। রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে উপস্থিত নেতাকর্মীদের মধ্যে তখন এক ধরনের প্রস্তুতি ও প্রত্যাশা কাজ করছিল। কিন্তু কে জানত, আর মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধানেই সেই সমাবেশস্থল পরিণত হতে যাচ্ছে ইতিহাসের এক কলঙ্কিত অধ্যায়ে—যেখানে উন্মোচিত হবে বর্বরতা ও পৈশাচিকতার এক নারকীয় দৃশ্যপট!

অতর্কিত হামলায় বদলে গেল দৃশ্যপট
চারদিকের পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ সুরমা পয়েন্ট অতিক্রম করে আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একটি মিছিল। মিছিলটির অগ্রভাগে ছিলেন মহানগর আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সিটি মেয়র বদর উদ্দিন কামরানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মিছিলে অংশগ্রহণকারী অধিকাংশ নেতাকর্মীর হাতেই ছিল বৈঠা-লগি, যা মূলত আগের দিন শেখ হাসিনার দেওয়া ঘোষণারই অংশ ছিল। কিন্তু মিছিল থেকে লগি-বৈঠা নিয়ে আকস্মিক আক্রমণে মুহূর্তেই পাল্টে যায় কোর্ট পয়েন্টের পরিস্থিতি। সমাবেশের প্রস্তুতি, মাইকের ঘোষণা আর রাজনৈতিক কর্মসূচির আবহ ছাপিয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক। সেখানে উপস্থিত ছিলেন মহানগর ছাত্রশিবিরের তৎকালীন সভাপতি নূরুল ইসলাম বাবুল, মদন মোহন কলেজ ছাত্রশিবিরের সভাপতি মনজুর রহমানসহ আরও অনেকে। হামলাকারীরা প্রথমেই মনজুর রহমানের ওপর লগি দিয়ে আক্রমণ করে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা দ্রুত বাড়তে থাকে। একজনের ওপর আক্রমণ যেন মুহূর্তেই অন্যদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার উপলক্ষ হয়ে ওঠে। এমন পরিস্থিতিতে সামনে এগিয়ে আসেন মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম বাবুল। তাঁর সামনে তখন রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে পরাস্ত করার চেয়ে বড় হয়ে উঠেছিল সহিংসতা থামানোর চেষ্টা। তিনি দুই হাত তুলে হামলাকারীদের নিবৃত্ত করার আহ্বান জানাতে থাকেন। তাঁর কণ্ঠে ছিল পরিস্থিতি শান্ত করার আকুতি। তিনি বারবার বলছিলেন, “আমি মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম বাবুল বলছি, তোমরা থামো। আমার কথা শোনো। সিলেটের সহনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নষ্ট কর না।”
একজন রাজনৈতিক নেতার পরিচয় দিয়ে তিনি হামলাকারীদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। চেয়েছিলেন, উত্তেজনার মধ্যেও যেন বিবেকের জায়গাটি অক্ষত থাকে। রাজনৈতিক বিরোধ যেন কোনোভাবেই রক্তপাতের কারণ না হয়। কিন্তু তাঁর সেই আহ্বান কি শোনা হয়েছিল?
ভয়াল সেই মুহূর্তটি আজও এক গভীর বেদনার ছবি। হামলাকারীরা তাঁর কথা উপেক্ষা করে উল্টো তাঁকেই আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করে। লগি ও বৈঠার উপর্যুপরি আঘাতে মুহূর্তেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন নূরুল ইসলাম বাবুল। মাটিতে লুটিয়ে পড়েও রেহাই পাননি। একজন ছাত্রনেতা, যিনি দুই হাত তুলে হামলা থামানোর আহ্বান জানাচ্ছিলেন, তিনিই পরিণত হলেন হামলার নির্মম শিকারে। পরিস্থিতি এত দ্রুত ভয়াবহ হয়ে উঠেছিল যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত অনেকের পক্ষেই কিছু বুঝে ওঠা কঠিন হয়ে পড়ে। হামলায় নেতৃত্ব দিতে দেখা গিয়েছিল আওয়ামী লীগ নেতা মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ ও যুবলীগ নেতা আজাদুর রহমান আজাদসহ আরও কয়েকজনকে। রাজনৈতিক পরিচয় ও নেতৃত্বের প্রশ্নে পরবর্তী সময়ে নানা আলোচনা থাকলেও, সেদিনের সহিংসতার ভয়াবহতা সিলেটের জনসাধারণের কাছে সবচেয়ে বড় হয়ে আছে।
নূরুল ইসলাম বাবুল মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও হামলা থামেনি। সবচেয়ে মর্মান্তিক দৃশ্যগুলোর একটি হলো, তাঁর মাথা ইটের ওপর রেখে পাথর দিয়ে আঘাতের পর আঘাত করা হচ্ছিল। একজন মানুষ তখন অচেতন, অসহায়। অথচ তাঁর ওপর আক্রমণের নির্মমতা থামছিল না। এ হামলায় তাঁর মাথার খুলি ভেঙ্গে যায়।
রাজনৈতিক মতপার্থক্য কি একজন মানুষকে এভাবে আঘাত করার অধিকার দিতে পারে? বিরোধী মতের একজন কর্মী বা নেতাকে দমন করতে গিয়ে মানবিকতার সব সীমা অতিক্রম করা কি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে? কোর্ট পয়েন্টের সেই রক্তাক্ত দৃশ্য আজও এসব প্রশ্ন সামনে নিয়ে আসে।
একসময় সহকর্মীরা কোনোমতে তাঁকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত ও অচেতন অবস্থায় তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় সিলেটের মেট্রোপলিটন হাসপাতালে। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেদিন কোর্ট পয়েন্টে যে ভয়াবহ আঘাতের শিকার হয়েছিলেন তিনি, তার প্রভাব শুধু তাৎক্ষণিক শারীরিক ক্ষতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি।

সিলেটে কী ঘটেছিল সেদিন সকালে?
সারাদেশের ন্যায় সেদিন সিলেটের আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরাও সকাল থেকেই বৈঠা-লগি নিয়ে মাঠে নেমে আসে। তারা সকাল ৮টা থেকেই জড়ো হতে থাকে দক্ষিণ সুরমার চণ্ডিপুল এলাকায়। প্রথমে তারা সিলেট রেলওয়ে স্টেশনে হামলা চালায়। আধুনিক রেলওয়ে স্টেশনসহ বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি লুটপাট করে ‘জয় বাংলা’ বলে উল্লাস করতে করতে ক্বিনব্রিজের দিকে এগিয়ে আসে। তারা ক্বিনব্রিজ পার হওয়ার সময় সশস্ত্র অবস্থায় ক্বিনব্রিজের নিচের সৌন্দর্য বর্ধন স্থাপনা ও সার্কিট হাউজে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করে। এরপর কোর্টপয়েন্টে সর্বদলীয় ছাত্রঐক্যের পূর্ব নির্ধারিত অনুষ্ঠানস্থলে লগি-বৈঠা নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় মহানগর শিবিরের সভাপতি নূরুল ইসলাম বাবুল গুরুতর আহত হন। এছাড়াও আরও অনেকে আহত হলেও নূরুল ইসলাম বাবুলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তারই সহকর্মীরা বহুকষ্টে উদ্ধার করে সরিয়ে নেন। এ সময় সেখানে থাকা মহানগর ছাত্রশিবিরের দুটি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। সভামঞ্চ ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলে সন্ত্রাসীরা। পার্শ্ববর্তী ডিপার্টমেন্টাল স্টোর বনফুলসহ বিভিন্ন দোকানপাট ভেঙ্গে নগদ অর্থ ও মালামাল লুট করতে দেখা যায় আওয়ামী সন্ত্রাসীদের। অন্যদিকে জামায়াত-শিবিরের লোকজন দ্রুত চৌহাট্টা পয়েন্টে জড়ো হতে থাকে। সকাল সাড়ে ১১টার দিকে জামায়াত-শিবিরের একদল কর্মী এবং ছাত্রজনতা ঐকবদ্ধ হয়ে মিছিলসহকারে কোর্টপয়েন্টে এসে আওয়ামীলীগের সন্ত্রসাীদের ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় মহানগর আওয়ামীলীগের এক নেতা বন্দর বাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেন এবং পরে বোরকা পরে পালিয়ে যান। দিনের বাকি সময় পুরো নগরী জামায়াত-শিবিরের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

যে ক্ষত আজও বহন করছেন নূরুল ইসলাম বাবুল
একটি সহিংস ঘটনার পর সময় পেরিয়ে যায়। রাজনীতির মাঠে নতুন ইস্যু আসে, পুরোনো বিতর্ক চাপা পড়ে, ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। কিন্তু আক্রান্ত মানুষের শরীর ও মনে থেকে যাওয়া ক্ষত সব সময় সময়ের সঙ্গে মুছে যায় না। নূরুল ইসলাম বাবুলের ক্ষেত্রেও সেই নির্মম বাস্তবতার কথা মনে পড়ে। ওই ঘটনার পর থেকে তাঁর কথা বলতে সমস্যা দেখা দেয়। পরবর্তীতে তিনি রাজনৈতিকভাবে আরও অগ্রসর হন। বর্তমানে মহানগর জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের পক্ষ থেকে আগামী নির্বাচনে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র প্রার্থী হিসেবেও তাঁকে মনোনীত করা হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘসময় পেরিয়ে গেলেও তিনি এখনো স্বাভাবিকভাবে বক্তব্য রাখতে পারেন না। একজন ছাত্রনেতার কণ্ঠস্বর, যিনি সেদিন সহিংসতা থামানোর জন্য বারবার আহ্বান জানিয়েছিলেন, সেই কণ্ঠই পরবর্তী জীবনে বহন করে চলেছে আঘাতের স্মৃতি। এখানেই ২৮ অক্টোবরের ঘটনাটি কেবল একটি রাজনৈতিক সংঘর্ষের স্মৃতি হয়ে থাকে না। এটি হয়ে ওঠে একজন মানুষের জীবন, তাঁর স্বাভাবিক কর্মক্ষমতা এবং প্রকাশের সক্ষমতার ওপর সহিংসতার দীর্ঘস্থায়ী প্রভাবের প্রতীক।

সিলেটের সহনশীল রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপর আঘাত
সিলেটের রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা সময়ে মতপার্থক্য, আন্দোলন, পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ও উত্তেজনা দেখা গেছে। কিন্তু রাজনৈতিক মতভিন্নতা থাকা সত্ত্বেও পারস্পরিক সহাবস্থান ও সহনশীলতার যে প্রত্যাশা একটি সুস্থ সমাজ ধারণ করে, তা ধ্বংস হয়ে গেলে ক্ষতিগ্রস্ত হয় পুরো জনপদ। কোর্ট পয়েন্টের সেই ঘটনা শুধু একটি দলের ওপর অন্য দলের হামলার ঘটনা নয়। এটি রাজনৈতিক সহনশীলতার ওপর আঘাতের স্মারক। নূরুল ইসলাম বাবুলের মুখে উচ্চারিত কথাগুলো—সিলেটের সহনশীল রাজনৈতিক পরিস্থিতি নষ্ট না করার আহ্বান—আজও বিশেষ তাৎপর্য বহন করে।
রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা, জনস্বার্থ রক্ষা এবং সমাজকে এগিয়ে নেওয়া। কিন্তু যখন রাজনৈতিক বিরোধ প্রতিপক্ষের ওপর শারীরিক আক্রমণে রূপ নেয়, তখন রাজনীতি তার নৈতিক অবস্থান হারাতে শুরু করে। প্রতিপক্ষকে যুক্তি দিয়ে মোকাবিলা করার পরিবর্তে আঘাত দিয়ে স্তব্ধ করার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতির জন্য ভয়ংকর।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সংগঠনের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের সুযোগ—এসব কোনো বিশেষ দলের একক সম্পদ নয়। এগুলো গণতান্ত্রিক সমাজের মৌলিক প্রত্যাশা। যে দলই ক্ষমতায় থাকুক, যে মতের মানুষই রাজপথে থাকুক, এসব অধিকারের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের দায়িত্ব।

রাজনীতি যদি মানুষের জন্য হয়, তবে রাজনৈতিক সহিংসতার বিরুদ্ধে অবস্থানও হতে হবে মানুষের জন্যই। দল-মত নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জীবন, মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকার ছাড়া গণতন্ত্র পূর্ণতা পায় না।

২৮ অক্টোবরের রক্তাক্ত স্মৃতি তাই কেবল অতীতের দিকে ফিরে তাকানোর উপলক্ষ নয়। এটি বর্তমান ও ভবিষ্যতের জন্যও একটি সতর্কবার্তা। রাজনীতির নামে আর কোনো কোর্ট পয়েন্ট যেন রক্তাক্ত না হয়, কোনো নূরুল ইসলাম বাবুল যেন সহিংসতার কারণে তাঁর স্বাভাবিক কণ্ঠ হারিয়ে না ফেলেন, কোনো পরিবার যেন রাজনৈতিক প্রতিহিংসার দীর্ঘস্থায়ী বেদনা বহন করতে বাধ্য না হয়।

ইতিহাসের কাছে আমাদের দায় শুধু স্মরণ করা নয়, শিক্ষা নেওয়াও। সেই শিক্ষাই হোক—মতভেদ থাকবে, কিন্তু সহিংসতা নয়। রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা থাকবে, কিন্তু প্রতিহিংসা নয়। রাজপথে প্রতিবাদ থাকবে, কিন্তু মানুষের জীবন ও মর্যাদার বিনিময়ে নয়।