মূল সংবাদে যান

শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর, ২০২৬

নাস্তিক ও মুক্তচিন্তকদের ওপর হামলার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান

বাংলাদেশে নাস্তিক, যুক্তিবাদী ও মুক্তচিন্তার মানুষদের ওপর হামলা নতুন কিছু নয়—এটি বহু বছর ধরে চলমান এক ভয়াবহ বাস্তবতা। কিন্তু আরও ভয়ঙ্কর হলো আমাদের নীরবতা। একটি দেশ যখন তার লেখক, চিন্তাবিদ, ব্লগারদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে, তখন সেই দেশের স্বাধীনতার আসল মূল্যবোধ প্রশ্নের সামনে পড়ে যায়।

আমাদের সংবিধান স্পষ্টভাবে বলে—প্রত্যেক নাগরিকের চিন্তা, বিবেক ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা আছে। তাহলে কেন কেউ লেখে বলে, প্রশ্ন করে বলে, যুক্তি তোলে বলে তাকে হত্যা করা হয়? কেন ধর্মের নামে সহিংসতা চালানোরা দুঃসাহস দেখায়? কেন নাস্তিক বা সংশয়বাদী হয়ে জন্মানোই যেন অপরাধ হয়ে দাঁড়ায়?

এই দেশ মুক্তিযুদ্ধ করেছে ধর্মীয় নিপীড়ন ও মতাদর্শগত সহিংসতার বিরুদ্ধে। কিন্তু আজ একই দেশে ভিন্নমতের লেখকদের গলা কাটা হয়, প্রকাশকদের ওপর হামলা হয়, ব্লগারদের তালিকা বানিয়ে টার্গেট করা হয়। এটি শুধু নাস্তিকদের ওপর হামলা নয়—এটি মানবতা, যুক্তিবাদ, বিজ্ঞানমনস্কতা এবং স্বাধীনতার ওপর আঘাত।

আমাদের মনে রাখতে হবে—
মতভেদ কোনো অপরাধ নয়। হত্যা অপরাধ।
অবিশ্বাস কোনো অপরাধ নয়। বর্বরতা অপরাধ।

যারা ভিন্নমতকে ভয় পায়, তারা শক্তিশালী নয়—তারা দুর্বল। যুক্তির সামনে দাঁড়াতে না পারলে তারা বেছে নেয় সহিংসতা। কিন্তু আমরা যদি চুপ থাকি, তাহলে সহিংসতার এই সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী হবে, এবং একসময় ভিন্নমতের পাশাপাশি সত্যকেও হত্যা করা হবে।

মুক্তচিন্তা রক্ষা করা মানে শুধু নাস্তিকদের রক্ষা করা নয়; এর মানে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা। যে সমাজে প্রশ্ন করার অধিকার নেই, সেই সমাজ এগোয় না—ঝুলে থাকে অন্ধকারে। আর অন্ধকারে দীর্ঘদিন বাঁচা যায় না।

আজ আমাদের স্পষ্ট অবস্থান নেওয়া জরুরি—
ভিন্নমত হত্যা বন্ধ হোক।
চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত হোক।
বাংলাদেশ উগ্রবাদ নয়, মানবিকতা ও যুক্তির পথে এগোক।

আমরা ভয়কে নয়, সত্যকে সমর্থন করি।
আমরা নীরবতার নয়, প্রতিবাদের পক্ষে।
কারণ ন্যায় প্রতিষ্ঠার প্রথম ধাপই হলো—অন্যায়ের বিরুদ্ধে জোরালো কণ্ঠ তুলে ধরা।