করোনার ছোবলে জাতির ঘাড়ে নেমেছিল লকডাউন। তার কারণে টানা দুই বছর সিলেটে ঈদের বাজার হয়নি। যা হয়েছে, শেষ মুহুর্তে, ব্যবসায়ীদের ভাষায় টুকিটাকি। এবার করোনা পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে। তাই সিলেট ফিরে পেয়েছে চিরচেনা রূপ।
গত দু’বছর যা দেখা যায়নি এবার তা শুরু হয়েছে অনেক আগে। এমনকি, কেউ কেউ বলছেন করোনা দেশে থাবা বসানোর আগের রূপে ফিরেছে সিলেট। কারও কারও মতে, তার চেয়েও বেশি কিছু। এমনিতে করোনার আগে সিলেটে রমজান মাসে পাড়ামহল্লায় আড্ডাবাজি চলতো। রাতজাগা তারুণ্য ব্যস্ত থাকতো নানা আয়োজনে।
এমনকি, রাতে মিনিবার ফুটবল টুর্নামেন্ট বা ছোট ভার্সনের ক্রিকেটও দেখা গেছে। আর ঈদের বাজারটা সাধারণত শুরু হতো ১৮/১৯ রমজানের দিকে। এবার ১০ রমজানের পর থেকেই দেখা যাচ্ছে সিলেট মহানগরী মধ্যরাতেও জমজমাট। বিভিন্ন মার্কেট বা দোকানপাটগুলো সাজানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের আনাগোনাও শুরু হয়। এমনকি নারী এবং শিশুদেরও দেখা যাচ্ছে ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত মার্কেট বা শপিং মলে। প্রায় প্রতিদিনই নগরীর বাইরে থেকে আসা যানবাহন এবং ক্রেতাদের সংখ্যা বাড়ছেতো বাড়ছেই।
রোববার ( ১৪ রমজান, ১৭ এপ্রিল) রাত ১২টার পরে সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজার চৌহাট্টা আম্বরখানা এলাকায় সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মল রীতিমতো আলো ঝলমলে। মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদেরও ভিড় ছিল। তাদের মধ্যে ছিলেন নারী এবং শিশুরাও। জিন্দবাজারের ফুটপাতে বেশ কয়েকজন নারী ও শিশুকে ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের সাথে দরদামে ব্যস্ত দেখা যায়।
এছাড়াও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নগরীর বারুতখানা, নয়াসড়ক, কুমারপাড়ার অভিজাত কাপড়ের দোকানগুলোতে প্রায় প্রতিদিন ক্রেতাদের আনাগোনা বাড়ছে। জিন্দাবাজারের এক কাপড়ের দোকানের বিক্রয় কর্মী আলাপকালে জানান, গত দু’ বছর শেষ মুহুর্তে দোকান খুলেও ক্রেতাদের তেমন একটা সাড়া মিলেনি। এবার ১০ রমজানের পর থেকেই তারা আসছেন। আশা করছি, ব্যবসা ভালোই হবে। আম্বরখানা পয়েন্টে একটা টেেিবল কিছু শার্ট প্যান্ট নিয়ে অস্থায়ী দোকান সাজিয়ে বসেছেন নরসিংদির আবুল কাশেম (৩৫)।
তিনি জানান, স্থায়ী কোন দোকান তার নেই। এভাবেই বসে ব্যবসা করেন প্রায় সারা বছর। তবে এখানে নয়, অন্য কোথাও। এবার ১৩ রমজান থেকে তার ঠিকানা আম্বরখানা পয়েন্ট। বললেন, গত দু’ বছর ঈদে তেমন ব্যবসা করতে পারিনি। এবার বেশ কিছু ভালো কোম্পানীর পোশাক নিয়ে এসেছেন। বললেন, কাস্টমাররা আসছেন। দরদাম করছেন। মোটামুটি ঈদের ব্যবসা শুরু হয়ে গেছে বলতে পারেন। এবার ভালো ব্যবসা হবে বলে আশাবাদী ফুটপাতের আবুল কাশেমের মতো সাধারণ বা অভিজাত মার্কেট বিপণীবিতানের ব্যবসায়ীদের।