মৌলবাদীরা ভাস্কর্য দেখে ক্ষিপ্ত হয়;
কারণ ভাস্কর্য হলো ইতিহাস, সংস্কৃতি ও পরিচয়ের প্রতীক,
আর মৌলবাদীরা চায় অতীতহীন, পরিচয়হীন, সংস্কৃতিহীন এক সমাজ—যেখানে তাদের ছাড়া আর কাউকে দেখা যাবে না।
তাদের আসল সমস্যা ভাস্কর্যের সঙ্গে নয়—
সমস্যা হলো মানুষের স্মৃতি, স্বাধীনতা ও সাংস্কৃতিক অস্তিত্বের সঙ্গে।
—
১. ভাস্কর্য ইতিহাস বলে—মৌলবাদীরা ইতিহাসকে ভয় পায়
একটি জাতির ভাস্কর্য তার ইতিহাসের সাক্ষী।
বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য, ভাষা শহীদদের ভাস্কর্য, বিজয় ও স্বাধীনতার স্মারক—
এসব সবই বলে:
“এই দেশ বাঙালির, মানুষরের, মুক্তচিন্তার।”
মৌলবাদীরা এই সত্য সহ্য করতে পারে না।
তারা চায় ইতিহাস মুছে দিতে, যাতে তারা নিজেদের মতাদর্শ বসাতে পারে।
এটাই কারণ—
যেখানে ইতিহাস দাঁড়ায়, সেখানে মৌলবাদ টিকতে পারে না।
—
২. ভাস্কর্য সংস্কৃতির প্রতীক—মৌলবাদ সংস্কৃতির শত্রু
বাংলার সংস্কৃতি হাজার বছরের:
লোকশিল্প
নৃত্য
কবিতা
গান
নাটক
ভাস্কর্য
মন্দির-মসজিদ-গির্জার শিল্প
এসব সবই মৌলবাদীদের চোখে ‘অপরাধ’।
কারণ মৌলবাদ চায় একরঙা, একঘেয়ে, চিন্তাহীন সমাজ।
ভাস্কর্য সেই সমাজকে রঙিন করে তোলে—
যা তাদের ক্ষমতাকে দুর্বল করে।
—
৩. ভাস্কর্য মানুষের স্বাধীনতা ও শিল্পের প্রতীক
ভাস্কর্য শুধুই পাথর নয়—
এটি মানুষের
সৃজনশীলতা
শিল্পবোধ
স্বাধীনতা
নান্দনিকতা
এর প্রকাশ।
মৌলবাদ অশিল্পী, অরুচিশীল, অমানবিক।
তারা জানে—
যে সমাজ শিল্প বোঝে,
সেই সমাজ অন্ধ অনুসারী হয় না।
তাই ভাস্কর্য তাদের জন্য দুঃস্বপ্ন।
—
৪. ভাস্কর্য রাজনৈতিকভাবে তাদের জন্য বিপজ্জনক
যখন ভাস্কর্য স্থাপিত হয়—
তখন সেখানে মানুষ জড়ো হয়, ছবি তোলে, আলোচনা করে।
মানুষ ইতিহাস জানতে চায়, প্রশ্ন করে।
মৌলবাদীরা প্রশ্ন-আলোচনা পছন্দ করে না।
তারা চায় নীরবতা, ভয়, হুকুম।
ভাস্কর্য মানুষকে চিন্তা করায়।
চিন্তা মানেই মৌলবাদের পতন।
—
৫. ভাস্কর্য ভাঙা হলো তাদের ক্ষমতা প্রদর্শনের খেলা
মৌলবাদীরা যখন ভাস্কর্য ভেঙে ফেলে,
তারা আসলে বোঝায়:
“দেখো, আমরা চাইলে দেশের স্মৃতি, সংস্কৃতি, ইতিহাস—সব ধ্বংস করতে পারি।”
এটি ভয়ের রাজনীতি।
মানুষকে ভয় দেখানোর কৌশল।
একে বলে symbolic terror—
প্রতীক ভেঙে জাতিকে ভয় দেখানো।
—
৬. ভাস্কর্য তাদের ভণ্ডামিকে প্রকাশ করে দেয়
তারা বলে ভাস্কর্য ‘শিরক’;
কিন্তু তারা—
বিদেশের ভাস্কর্য দেখে ছবি তোলে
আরবের মূর্তি দেখে সমস্যা করে না
নিজেদের নেতাদের বিশাল ব্যানার টাঙায়
রাজনৈতিক প্রতীক হিসেবে ছবি ব্যবহার করে
তাহলে সমস্যা কোথায়?
সমস্যা ধর্মে নয়;
সমস্যা বাংলার সংস্কৃতি ও মুক্তচিন্তার সঙ্গে,
যা তাদের মতাদর্শের সঙ্গে মেলে না।